সংগীতের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (প্রথম পরিচ্ছেদ)

তত্ত্বীয় - সংগীত - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

215

শাস্ত্রীয়সংগীতের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
মানবসভ্যতার প্রথম যুগে ভাষার উৎপত্তির আগেই মানুষ তার ভাব, আবেগকে প্রকাশ করেছে সুরে সুরে। মানুষের কণ্ঠনিসৃত ধ্বনি সুরবিহীন ছিল না। মানবকণ্ঠের এই সুরময় প্রকাশের উৎকর্ষিত রূপই সংগীত। সেই দিক থেকে বিচার করলে সংগীতের ইতিহাস মানব সভ্যতার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। এই উপমহাদেশের সভ্যতা যেমন প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন ধারায়, বিভিন্ন কালে ও বিভিন্ন পর্যায়ে বিকশিত হয়েছে তেমনি সংগীতের ইতিহাসকেও কয়েকটি কাল-পর্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে। প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগভেদে উপমহাদেশীয় সংগীতকে মোট পাঁচটি কাল-পর্যায়ে ভাগ করা যায়। যেমন-

ক) প্রাক-বৈদিক যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০-২০০০ খ্রিস্টপূর্ব)
খ) বৈদিক যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ২০০০-১০০০ খ্রিস্টপূর্ব)
গ) বৈদিকোত্তর যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-১২০৬ খ্রিস্টাব্দ)
ঘ) মধ্যযুগ (১২০৭-১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ)
ঙ) আধুনিক যুগ বা বর্তমান কাল (১২০৭-১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ)

প্রথম তিনটিকে একত্রে প্রাচীন যুগ বলে। নিচে প্রাচীন, মধ্য এবং আধুনিক যুগ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো: প্রাচীন যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০-১২০৬ খ্রিস্টাব্দ)
ক) প্রাক-বৈদিক যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০-২০০০ খ্রিস্টপূর্ব)
মোটামুটি সিন্ধু সভ্যতার সময়কে প্রাক-বৈদিক যুগ ধরা হয়। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসস্তুপ থেকে প্রাপ্ত সংগীতবাদ্যযন্ত্র, বীণা, মৃদঙ্গ, চামড়ার বাদ্যযন্ত্র, নৃত্যরত নারী-পুরুষ মূর্তি সে যুগের সংগীত চর্চার সাক্ষ্য বহন করে, তবে সংগীত প্রসঙ্গে কোনো লিখিত নিদর্শন পাওয়া যায়নি বলে সে সময়ের সংগীতের সঠিক রূপ কী ছিল তা নিরূপণ করা যায়নি।

খ) বৈদিক যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ২০০০-১০০০ খ্রিস্টপূর্ব)
বৈদিক যুগের গান মূলত সামগান। আর্যদের আগমনের ফলে প্রাচীনযুগে মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসস্তুপের উপর গড়ে ওঠে বৈদিক সভ্যতা। বেদের স্ত্রোত্রগুলিকে সুর করে গাওয়া হতো যজ্ঞানুষ্ঠানে। বৈদিক সংগীতে উদাত্ত, অনুদাত্ত এবং স্বরিত এই তিনটি স্বর ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। সংগীত শাস্ত্রকারদের মতে, এই উদাত্ত, অনুদাত্ত এবং স্বরিত এই তিনটি আদি স্বর থেকেই পরবর্তীকালে সাত স্বরের উদ্ভব হয়েছে।

গ) বৈদিকোত্তর যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-১২০৬ খ্রিস্টাব্দ)
বৈদিকোত্তর যুগে সংগীত চর্চার পাশাপাশি এর ঔপপত্তিক (শাস্ত্রীয়) বিশ্লেষণ প্রাধান্য পেতে থাকে। এই সময়েই রচিত হয় ভরতের 'নাট্যশাস্ত্র', নারদের 'সংগীত মকরন্দ', 'মতঙ্গের বৃহদ্দেশী' ইত্যাদি সংগীত গ্রন্থাদি। স্বরগ্রাম, মূর্ছনা ইত্যাদি সাংগীতিক পরিভাষাগুলি এই সময়ের শাস্ত্রীয় গ্রন্থগুলিতে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।
ঘ) মধ্যযুগ (১২০৭-১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ)
মধ্যযুগে উপমহাদেশীয় সংগীত অভাবিত উন্নতি ও প্রসার লাভ করে। এই সময়ে শাস্ত্রীয়সংগীতে শৈলি ও পরম্পরাগত উৎকর্ষ সাধিত হয় এবং সংগীতে ঘরানা পদ্ধতির উন্মেষ ঘটে। মধ্যযুগের বিখ্যাত সংগীতশাস্ত্রীদের মধ্যে শার্জদেব, পার্শ্বদেব, কবি লোচন, অহোবল ও সোমনাথ প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
ঙ) আধুনিক যুগ বা বর্তমান কাল (১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ-বর্তমান কাল)
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আধুনিক যুগের সূচনা হয়। আধুনিক যুগে ভারতীয় সংগীতের চরম উৎকর্ষতার জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন পণ্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখণ্ডে এবং পণ্ডিত বিষ্ণুদিগম্বর পলুস্কর।
যদিও আঠারো শতকের শেষভাগে রামনিধি গুপ্তের টপ্পা গানের মাধ্যমে আধুনিক বাংলা গানের সূচনা হয়। পরবর্তীতে কালী মির্জার টপ্পা, শঙ্কর ভট্টাচার্য্যের বাংলা ধ্রুপদ, রাজা রামমোহন রায়ের ব্রহ্মসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, দ্বিজেন্দ্রগীতি, রজনীকান্তের গান, অতুলপ্রসাদের গান এবং নজরুলসংগীত বাংলা আধুনিক গানের প্রথম পর্যায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে অজয় ভট্টাচার্য, হিমাংশু দত্ত, সলিল চৌধুরী, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, নচিকেতা ঘোষ, সুধীন দাশগুপ্ত, শচীন দেব বর্মন উল্লেখযোগ্য। শেষপর্যায়ে আবু হেনা মোস্তফা কামাল, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আবদুল লতিফ, আলতাফ মাহমুদসহ সহস্র সংগীতকারের গৌরবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাগানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিবেশ এ দেশের কণ্ঠসংগীতকে ঐতিহ্যমণ্ডিত করেছে। বাংলাদেশের পরিবেশ, ইতিহাস এবং কৃষ্টি এ দেশের গানে রূপায়িত হয়েছে। এ দেশের মাটি ও আবহ এ দেশের গানকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে।
বাংলাদেশের সংগীতের ইতিহাস প্রাচীন। তবে তার সঠিক সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। সংগীত শাস্ত্রকারদের লেখা বই থেকে একটা ধারণা পাওয়া যায় মাত্র। স্তোত্রকে অবলম্বন করেই সংগীতের যাত্রা।
বাংলাদেশে শাস্ত্রীয়সংগীতের প্রচলন ছিল প্রাচীনকাল থেকে। সুলতান আলাউদ্দিন খলজির (১২৬৭-১৩১৬) রাজত্বকালে হযরত আমীর খসরু শাস্ত্রীয়সংগীতে নতুন ধারা প্রবর্তন করেন। ফলে সংগীতের বিকাশ শুরু হয়, ধ্রুপদ, ধামার, খেয়াল, দাদরা, সাদ্রা, টপ্পা, ঠুমরি, গজল, কাওয়ালি, যুগলবন্ধ, প্রবন্ধ, রাগমালা, গুলনকশ, তারানা, চতুরঙ্গ, পট-খেয়াল, ত্রিবট, শোহেলা, জিগর, কাজরি প্রভৃতি নানান ধারায় সংগীতের বিকাশ সাধন হতে থাকে।
দশম শতাব্দী থেকে প্রবন্ধ সংগীতের সঙ্গে চর্যাপদের প্রচলন ছিল। তাই চর্যাকে বাংলাদেশের প্রাচীনতম সংগীত বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশের সেন বংশের শেষ রাজা ছিলেন লক্ষণ সেন। তাঁর সংগীতজ্ঞ সভাকবি ছিলেন জয়দেব। জয়দেব 'গীতগোবিন্দ' নামে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। এর পদগুলো গাওয়া হতো। বাংলাগানের সমৃদ্ধ ইতিহাসের বিষয় বস্তু হিসেবে রাধা-কৃষ্ণের যে লীলা বর্ণনা করা হয় তার মূল প্রেরণা এই গীত গোবিন্দ থেকে এসেছে বলে ধরা হয়। তাই সংস্কৃত ভাষায় রচিত হলেও গীত গোবিন্দ বাংলাগানের ইতিহাসে একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়।
মধ্যযুগের পূর্বে বাংলাদেশে নিবদ্ধ গানের প্রচলন ছিল। যে গান তালের সঙ্গে গাওয়া হয় তার নাম নিবদ্ধ গান। এ গানে চারটি কলি থাকে। যথা: স্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চারী ও আভোগ।
মধ্যযুগে বাংলাদেশের সংগীতে মুসলমানদের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্ ছিলেন মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ শাসনকর্তা। তাঁর শাসনামলে শ্রীচৈতন্যের কীর্তন প্রচলন শুরু হয় বলে অনুমান করা হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে শাস্ত্রীয়সংগীতের প্রসার শুরু হয়। রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯) শাস্ত্রীয়সংগীতের ওপর ভিত্তি করে বাংলায় টপ্পা গান উদ্ভাবন করেন। তাঁর টপ্পা গান 'নিধুবাবুর টপ্পা' নামে পরিচিত। অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাংলাদেশের কণ্ঠসংগীতে নিধুবাবুর টপ্পার প্রচলন।
বাংলাদেশে মুসলমানদের আগমনের সঙ্গে সংগীতের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের সূচনা হয়। এই পরিবর্তনের ধারা বাংলাদেশের সংগীতেও প্রভাব বিস্তার করে। বাংলাদেশে প্রচলিত গানের সঙ্গে শাস্ত্রীয়সংগীতের চর্চা শুরু হয়। ফলে বাংলাদেশের সংগীত নতুন রূপে বিকশিত হতে শুরু করে। এ সকল সংগীতধারা ক্রমাগত বিস্তার লাভ করলেও সেই প্রাচীনকাল থেকে বাউল ও লোকধারার গান প্রচলিত ছিল। সেই বাউলধারার প্রধান প্রবর্তক লালন সাঁই (১৭৭২-১৮৯০) দেহতত্ত্ব ও অধ্যাত্মবাদ স্রোত ছিল তাঁর গানের মূল যা বাংলাগানকে অনেকখানি সমৃদ্ধ করেছে।

মার্গ সংগীত বাংলার প্রাচীন সংগীতের ধারা। বৈদিক ও তার পরবর্তী যুগে যে সুরের মাধ্যমে উপাসনা বা আরাধনা করা হতো, তাকে মার্গ সংগীত বলা হয়। এই গান সাধারণের জন্য নয় এবং এক ধরনের কঠিন ব্রত পালনের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম রীতি অনুসরণ করে গাওয়া হতো। অন্যদিকে দেশে দেশে অঞ্চলভেদে নানা ভাবে মানুষের হৃদয় উৎসারিত এবং ধর্মনিরপেক্ষ গানগুলোকে দেশি সংগীত বলে। এই গানের আবেদন স্বতঃস্ফূর্ত এবং সর্বসাধারণের জীবন ও রুচির প্রকাশই এতে প্রধান দিক হিসেবে বিবেচিত। দেশি সংগীত মার্গ সংগীতের সমসাময়িক হলেও তা নানা বিবর্তনের ভেতর দিয়ে নদীর স্রোতের মতো প্রবাহিত হয়ে চলেছে। লোকসংগীত দেশি সংগীতেরই একটি ধারা। দেশি সংগীতে বিদেশি সুরের মিশ্রণ সর্মথন করা হতো। যেমন মধ্যযুগে পারস্য সংগীতের মিশ্রণের মাধ্যমে হিন্দুস্থানি সংগীতের বিকাশ ঘটে।
লোক বা গ্রামীণ সংগীত বলতে পল্লী ও প্রান্তিক মানুষের জীবনের কথা, সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, শ্রম-শ্রান্তির কথা ফুটে ওঠে যে সংগীতে। এই গান মুলত মৌখিক, ভাষা আঞ্চলিক এবং প্রকৃতি নির্ভর। অথবা বলা যায় এই গান আদি তৃণমূল পর্যায়ের গান। সম্মিলক বা একক কন্ঠে গাওয়া হলেও এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে মানুষের মুখে মুখে বিবর্তনের মাধ্যমে বিকাশ ঘটে। ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, সারি, বাউল, গম্ভীরা, পালাগান প্রভৃতি লোকসংগীত পর্যায়ের গান। লোকগানে একদিকে যেমন ভাব ও মরমিবাদ আছে, অন্যদিকে শ্রম-শ্রান্তি, জীবিকা নাটক নৃত্য সবকিছুরই উদ্দীপনা রয়েছে।
বাংলাদেশের সংগীতের ভাণ্ডার খুবই সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের গান সুর-সম্পদ এবং সুর-বৈচিত্র্যে অতুলনীয়। বাংলাদেশের জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা, কীর্তন, কবিগান, পালাগান, চট্টক্কা ইত্যাদি বাংলাদেশের একান্ত সম্পদ। বাংলাদেশের কণ্ঠসংগীতের ভুবনকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলেন কালজয়ী সংগীত রচয়িতাগণ। তন্মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন, রজনীকান্ত সেন, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, লালন সাঁই, হাসন রাজা উল্লেখযোগ্য।

লোকসংগীত
বাংলাদেশের কন্ঠসংগীতের ঐতিহ্যের মূলে রয়েছে এ দেশের লোকগীতি বা লোকসংগীত। লোকসংগীত বাংলাদেশের দেশজ কৃষ্টি। তাই লোকসংগীত চিরায়ত সংগীত। এই সংগীতে রয়েছে মাটির মানুষের প্রাণের ছোঁয়া। এই গানের মূল বিষযবস্তু গ্রামের মানুষের বিরহ-ব্যথা ও হাসি-কান্নার কাহিনি। গ্রাম্য জীবন, প্রকৃতি ও গ্রামের মানুষের মনের কথা নিয়ে লোকসংগীত রচিত। এ সংগীতে রয়েছে কৃষক, জেলে, মাঝি, তাঁতি, কামার ও কুমোরের মতো গ্রাম্য মানুষের মনের কথা। বিভিন্ন পূজা-পার্বণ, আনন্দ-উৎসবে এ সকল গান গাওয়া হয়। লোকসংগীতে অনেক শ্রেণির গান রয়েছে। যেমন- বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, টুসু, গম্ভীরা, জারি, সারি, কবি, পালা, চটকা, ঝুমুর, গাজন, কীর্তন, পাঁচালি, পুঁথি পাঠ, মেয়েলি গীত, আলকাপ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। লোকসংগীতে পল্লি মানুষের সহজ সরল মনের প্রকাশ ঘটে। এ গানে শাস্ত্রীয়সংগীতের জটিলতা নেই। এ গানের আবেদন সহজ ও সরল। তাই এ গানের আবেদন চিরন্তন। মূলত শ্রুতি ও স্মৃতি নির্ভর করেই এ গান প্রবহমান নদীর ধারার মতো বহমান থাকে। বাংলাদেশের লোকসংগীত যুগ যুগ ধরে শুধুমাত্র দেশের সাংস্কৃতিক ধারাকেই নয়, বিদেশেও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ভাঙারকেও সমৃদ্ধ করেছে।
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি লোকসংগীতের ধারা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা ঃ-

ভাটিয়ালি
'ভাটি' শব্দ থেকে ভাটিয়ালি কথাটি এসেছে। ভাটিয়ালি গানে সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনার প্রকাশ ঘটে। ভাটির টানে মাঝি নৌকা ছেড়ে মনের খুশিতে ভাটিয়ালি গান গায়। এ গানের সুরে একটা উদাস ভাব আছে। এ গানের সুর টানা। কোনো বাঁধা তাল নেই। একক গান হিসেবে ভাটিয়ালি প্রচলিত। বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলে (ময়মনসিংহ, সিলেট, ফরিদপুর ইত্যাদি) ভাটিয়ালি গান খুব জনপ্রিয়।
ভাওয়াইয়া
ভাওয়াইয়া উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় লোকসংগীত। এই গান মূলত ভাব প্রধান। গানের কথা ও সুর করুণ। 'ভাব' শব্দ থেকে 'ভাওয়াইয়া' গানের উৎপত্তি। তবে অনেকের মতে 'ভাওয়া' শব্দ থেকে 'ভাওয়াইয়া' কথাটি এসেছে। কাশ, নলখাগড়ার বিস্তীর্ণ চরকে 'ভাওয়া' বলা হয়। 'ভাওয়াইয়া' গান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রচলিত।
বাউল
বাউল আধ্যাত্মিক গান। এ গান সাধকদের গান। এই সাধকরা 'বাউল' নামে পরিচিত। বাউলদের সাধনা অতি প্রাচীন। বাউলদের সাধনা সহজ পথের সন্ধান। গানের ভেতর দিয়ে তারা সেই পথের সন্ধান করে। বাউল গানের সঙ্গে একতারা ও ডুগডুগি বাজানো হয়। বাউল গানের আবেদন অন্তর্ভেদী। লালন সাঁই বাউল গানের অন্যতম পুরোধা।
মারফতি
লোকসংগীতের আধ্যাত্মিক ধারার একটি অন্যতম গান মারফতি। স্রষ্টাকে প্রেমের মাধ্যমে অর্জনই এই গানের মূল লক্ষ্য।
মুর্শিদি
মুর্শিদ মানে গুরু। এই মুর্শিদি বা গুরুর প্রতি ভক্তি নিবেদন বিষয়ক গানই হলো মুর্শিদি গান। বাংলাদেশের • মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর ও কেরাণীগঞ্জ অঞ্চলে এই গানের প্রচলন বেশি।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...